ঢাকা মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

Popular bangla online news portal

বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও অর্জনের নিত্যসঙ্গী বেগম ফজিলাতুন্নেছা


নিউজ ডেস্ক
৯:৪১ - সোমবার, আগস্ট ৮, ২০২২
বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও অর্জনের নিত্যসঙ্গী বেগম ফজিলাতুন্নেছা

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব একজন মহীয়সী নারী। যিনি সর্বদা বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন সংগ্রামের ছায়াসঙ্গী হয়ে পাশে ছিলেন। শত কষ্ট,  ত্যাগ,  মায়া বিসর্জন দিয়ে সর্বদা পাশে থেকেছেন। বঙ্গবন্ধুকে সব সময় সাহস যুগিয়েছেন।

সোমবার (৮ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী, মহিয়সী নারী, বাঙালির সকল লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল তাঁর কবিতায় লিখেছিলেন,‘‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”। বেগম মুজিবের জীবনী বিশ্লেষণে আমরা বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতার যথার্থ প্রতিফলন দেখতে পাই।

তিনি ১৯৩০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।তার ডাকনাম ছিল রেনু। তার পিতার নাম শেখ জহুরুল হক ও মাতার নাম হোসনে আরা বেগম। পাঁচ বছর বয়সে তার পিতা-মাতা মারা যান। তিনি তার স্বামী শেখ মুজিবুর রহমানের চাচাতো বোন ছিলেন। শেখ মুজিবের বয়স যখন ১৩ ও বেগম ফজিলাতুন্নেসার বয়স যখন মাত্র তিন, তখন পরিবারের বড়রা তাদের বিয়ে ঠিক করেন। ১৯৩৮ সালে বিয়ে হবার সময় রেনুর বয়স ছিল ৮ বছর ও শেখ মুজিবের ১৮ বছর। পরে এই দম্পতির দুই কন্যা ও তিন ছেলে হয়। তারা হলেন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল।

রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর অবিচল সহযোগী ও অনুপ্রেরণা। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সাফল্যে তার অসামান্য ভূমিকা ছিল। বাঙালি জাতির অধিকার আদায় ও স্বাধীনতার সংগ্রামে বঙ্গমাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একজন পারদর্শী ও অকৃত্রিম সহযোগী। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বামী পাকিস্তানে বন্দি থাকা অবস্থায় বঙ্গমাতা ধৈর্য, সাহসিকতা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গমাতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি নির্যাতনের শিকার ও আত্মত্যাগী নারী বোনদের চিকিৎসা, সহানুভূতি ও সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বেগম ফজিলাতুন্নেসা পরিবারের সদস্য শেখ হাসিনা, শেখ জামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেল, এম এ ওয়াজেদ মিয়া এবং অন্যান্যদের মগবাজার অথবা কাছাকাছি কোনো এলাকার এক ফ্ল্যাট থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়েছিলেনে ১২ মে ১৯৭১ এবং ধানমন্ডির বাড়ি ২৬, সড়ক ৯এ (পুরনো ১৮) তে বন্দি অবস্থায় ছিলেন ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট, এক দল নিম্নপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপতির বাসভবন আক্রমণ করে শেখ মুজিবকে, তাকে, তার পরিবারের সদস্যদেরকে এবং তাঁদের ব্যক্তিগত কর্মচারীদেরকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছেন ফজিলাতুন্নেছার দশ বছরের ছেলে শেখ রাসেল, তার বাকি দুই ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, পুত্রবধু সুলতানা কামাল এবং রসি জামাল, ভাই আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, দেবর শেখ নাসের, ভাতিজা শেখ ফজলুল হক মণি এবং তার স্ত্রী আরজু মণি। সেসময় পশ্চিম জার্মানি সফরে থাকার কারণে শুধুমাত্র তার কন্যাদ্বয় শেখ হাসিনা ওয়াজেদ এবং শেখ রেহানা প্রাণরক্ষা পান। পরে তাদেরকে বাংলাদেশ আসতে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।

বঙ্গমাতার স্মরণে বঙ্গবন্ধু মেমরিয়াল ট্রাস্ট মালয়েশীয় হাসপাতাল কেপিজে এর সাথে একত্রিত হয়ে ‘শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। হাসপাতালটি প্রবর্তিত করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালেশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক।


শেখ ফজিলাতুন্নেসার জীবন ও কর্ম চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রামের অনেক অজানা অধ্যায় জানতে পারবে।