ঢাকা বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

Popular bangla online news portal

১৫ আগস্ট জাতির কাছে আসে শোকবার্তায়


নিউজ ডেস্ক
৩:১৬ - সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০২২
১৫ আগস্ট জাতির কাছে আসে শোকবার্তায়

প্রতিবছর আগষ্ট মাস এসে এ জাতিকে তার কলঙ্কিত অধ্যায় মনে করিয়ে দেয়। ১৯৭৫ সালের এই মাসে পৃথিবীর ইতিহাসে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। যে একটি জাতির জন্য নিজের সর্বস্ব হারালেন, তাঁকেই কিনা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সে জাতির কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য স্বপরিবারে হত্যা করল। তাইতো প্রতিবছর ১৫ ই আগস্ট আসে জাতির কাছে গভীর শোকবার্তা নিয়ে। তিনি আর কেউ নন, এ বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে যিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ করে গেছেন সেই নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

বিন্দু থেকে বিন্দুর অস্তিত্বের মধ্যে মানুষের যে জীবন, সেই অস্তিত্বের মধ্যে বঙ্গবন্ধু একটি স্ফুলিংগের মতো জন্মেছিলেন, সেই স্ফুলিংগ নিভিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শত্রু ও এই দেশীয় দোসর। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পর আব্দুল মালেক উকিল বলেছিলেন, জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু অধিক শক্তিশালী। যা প্রতিষ্ঠিত সত্য। জাতির পিতার স্মরণে বাঙালি কবি এবং প্রাবন্ধিক অন্নদাশঙ্কর রায় বলেছিলেন, যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।


বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস ও দেশপ্রেম দেখে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং কিংবদন্তি বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনি হিমালয়ের মতো।


বাংলার এক হাজার বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান একমাত্র নেতা, যিনি রক্তে, বর্ণে, ভাষায়, সংস্কৃতিতে ও জন্মসূত্রে পুরোদস্তুর বাঙালি। কন্ঠ তাঁর বজ্র নির্ঘোষ। তাঁর মন্ত্রমুগ্ধ ক্যারিশমায় জনগণ মোহবিষ্ট হয়ে এক সাগর রক্ত দিয়ে অর্জন করেছে স্বাধীন বাংলাদেশ। কথাগুলো আমার নয়, মার্কিন সাংবাদিক সিরিল ডান এর। বিশ্ব বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী “নিউজ উইক” শেখ মুজিবকে অভিষিক্ত করেছে “পোয়েট অব পলিট্রিক্স।”


যখন তিনি সর্বোচ্চ দেশপ্রেম দিয়ে বাংলাদেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন নিজ বুদ্ধিমত্তায়, তখনই বিশ্বাসঘাতকরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অসাধ্য সাধনের রাজনৈতিক ব্রতে নিয়োজিত এক মহাবীর এর রাশ টেনে ধরা হয়। খুনী মোশতাক ও জিয়া চক্র হত্যা করে স্বাধীনতার মূল্যবোধকে। বিকৃত করে মহান মুক্তিযুদ্ধের চার সাংবিধানিক মূলনীতি। রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হয় স্বাধীনতার বিরোধীদের।রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনর্বাসন করা হয় তাদের।


শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে কুটনৈতিক মিশনে চাকুরী দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। ইনডেমনিটি নামক আইন করে হত্যাকারীদের জায়েজ করে ইতিহাসে কলংক লেপন করেন জিয়া। তিনি হত্যা, ক্যূ ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি দিয়ে টিকে থাকার জন্য হাজার হাজার সামরিক বাহিনী অফিসার জোয়নদের হত্যা করেন।


স্বাধীনতার মহান নায়কের বেঁচে যাওয়া দুই সন্তান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে আসতে না দিলেও স্বাধীনতার শত্রু মূল ঘাতক গোলাম আযমকে দেশে ফিরে আনা হয়। এমন কি তিনি আরেক নরঘাতক শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।


ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমাদের যে স্বাধীনতা তাকে এভাবেই পর্যদস্ত করা হয়েছিল। মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে ছাত্র রাজনীতিকে তিনি কুলষিত করেছিলেন। দম্ভ করে বলেছিলেন “মানি ইজ নো প্রোবলেম”। তিনি রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের কঠিন করে তুলেছিলেন। বলেছিলেন “আই উইল মেইক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর পলিটিশিয়ান”। হ্যাঁ এবং না ভোটের মাধ্যমে জাতির সাথে চরম তামাশা করেছিলেন।


বেগম খালেদা জিয়াও সেই ধারাবাহিকতায় ষড়যন্ত্র করছেন দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে। দেশ আজ বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের ফাঁসি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদেরও ফাঁসি হচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেন, সহিংস ও কাপুরুষোচিতভাবে বাংলাদেশের জনগণের মাঝ থেকে এমন প্রতিভাবান ও সাহসী নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়া কী যে মর্মান্তিক ঘটনা! তারপরও বাংলাদেশ এখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে, তাঁরই কন্যার নেতৃত্বে। তারপরও থেমে নেই ষড়যন্ত্র। প্রতিটি মুহূর্ত নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে আদর্শিক পিতার যোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। এইদেশ এগিয়ে যাবে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বিশ্ববুকে।

লেখক-

শেখ সানজিদা; 

সহ সভাপতি, ইডেন কলেজ ছাত্রলীগ।