ঢাকা বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

Popular bangla online news portal

বৃষ্টিতে পানিবন্দি আশ্রয়ণ প্রকল্পেকর বাসিন্দারা


নিউজ ডেস্ক
১৬:০৩ - বুধবার, আগস্ট ৩১, ২০২২
বৃষ্টিতে পানিবন্দি আশ্রয়ণ প্রকল্পেকর বাসিন্দারা

রংপুরের কাউনিয়ায় দুদিনের বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পেকর বাসিন্দারা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে পানি ঢুকেছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় উপকারভোগীরা ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের নিচু এ জায়গাটি মাটি ভরাট করে উঁচু না করে ঘর নির্মাণ করাতে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দুর্ভোগের শিকার লোকজন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী বাসিন্দারা বলছেন, উপহারের ঘরগুলো নিচু জায়গায় করা হয়েছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতে এমন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় হাঁটু পানিতে ডুবে আছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো। অথচ এই প্রকল্পের কাজের সময় স্থানীয় লোকজন জায়গাটি উঁচু না করে ঘর নির্মাণ করতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করেই অপরিকল্পিতভাবে তাদের জন্য আবাসনের এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভার মায়াবাজার ক্যানেলটারী মহল্লায় ভূমিহীনদের নির্মিত আশ্রয়ণ প্রকল্পের আবাসন এলাকায় গিয়ে জলাবদ্ধতায় ঘর ডুবে থাকতে দেখা যায়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আশপাশের নিচু জায়গাতেও বৃষ্টির পানি আটকা পড়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মায়াগ্রুপের পরিচালনা পর্ষদ ৫৬ শতাংশ জমি আশ্রয়ণ প্রকল্পের নামে সরকারকে দান করে। সেই জমিতে গৃহহীন ও ভূমিহীন ২২ উপকারভোগীর প্রত্যেককে দুই শতাংশ জমি ও পাকাঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। তবে সরকার ঘোষিত উপহারের এই ঘরগুলো নিচু জায়গায় নির্মাণ করাতে সামান্য বৃষ্টির পানিতে এখন সেখানকার বাসিন্দারা পানিবন্দি হয়ে পড়ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যানেলটারী মহল্লার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২২টি ঘরের মধ্যে সাতটি ঘরের ভেতর ও বাইরের দিকে প্রায় দুই-তিন ফুট পানি জমেছে। সেখানকার উপকারভোগীরা ঘর ছেড়ে আশপাশের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া অন্য ঘরগুলোতেও পানি ঢুকে পড়ার অবস্থা হয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আনিছুর বলেন, সরকারের কোনো দোষ নাই। এটা নিচা জাগা (নিচু জায়গা) হওয়াতে এই অবস্থা। নাই একনা বৃষ্টিতে হামার সবারে ঘরোত পানি ঢুকছে বাহে। অ্যালা রান্না করারও সুযোগ না। হাঁটাচলার রাস্তা, টিউবওয়েল, গোসলখানা পর্যন্ত পানিত ডুবি আছে। কেমন করি পানি কমি যাইবে চেয়ারম্যান, মেম্বারোক কন। হামরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।  

শাবানা খাতুন নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, এই জায়গাটা যদি একটু উচুঁ হতো তাহলে আজকে এই অবস্থা হয় না। নিচুঁ জায়গাতে ঘর হওয়াতে সবাই এখন দুর্ভোগে। সামান্য বৃষ্টিতেই কোমর পানি। ঘরে পর্যন্ত পানি ঢুকেছে। আশপাশের তেমন ড্রেনও নাই। পানি নিষ্কাশন না হলে আমাদের কষ্ট আরও বাড়বে। মেয়র, ইউএনও, ডিসি স্যার সবাই এসে দেখলে বুঝবে আমরা কী রকম অসুবিধায় আছি।

হারাগাছ পৌরসভার কাউন্সিলর নুরফুল ইসলাম সরা বলেন, পানি নিষ্কাশনের নালাগুলো অবৈধভাবে দখল হওয়ার কারণেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগীসহ পুরো ক্যানেলটারী মহল্লার মানুষকে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলে এতক্ষণে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হতো।  

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা তারিন বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এমনটা হচ্ছে। পৌরসভার মেয়র ও জনপ্রতিনিধিদেরকে বারবার বলার পরও পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ছাড়া ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভর্তি থাকায় এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের এলাকা থেকে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান বলেন, রংপুরে দুই-তিন দিন ধরে থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বুধবার রংপুরে ৩৩ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ১৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া সোম ও রোববার- এই দুদিনে ২২৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত বছর রংপুর জেলায় ১ হাজার ৮৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। তবে এ বছর বর্ষা মৌসুমে তেমন ভারি বৃষ্টিপাত হয়নি। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৬৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।