ঢাকা বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

Popular bangla online news portal

২৪ ঘন্টা না পার হতেই আবারও সংঘর্ষে ছাত্রলীগ, আহত- ৩০


নিউজ ডেস্ক
১৫:০১ - শনিবার, সেপ্টেম্বর ১০, ২০২২
২৪ ঘন্টা না পার হতেই আবারও সংঘর্ষে ছাত্রলীগ, আহত- ৩০

আবু শামা 

চব্বিশ ঘণ্টা পার না হওয়ার আগেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আবারও দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কাজী নজরুল ইসলাম হল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রা। 

জানা যায়, ক্যাম্পাসের মূল ফটক সংলগ্ন হোটেলে কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের এক কর্মী দুপুরের খাবার খেতে গেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় রামদা, রড, হকি স্টিক, দেশীয় অস্ত্র, প্লাস্টিকের পাইপ, ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ দু'পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। শনিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২ টার দিকে শুরু হওয়া দুই ঘন্টা ব্যাপী এই সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাদেৎ মো. সায়েম সহ আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদেরকে কুমিল্লা মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। 


এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগ সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) নাজমুল হাসান পলাশ বলেন, গত কাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু হলের নেতাকর্মীরা আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালাচ্ছে। তাদের সবকিছুই করছে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে। আমরা আজকে সন্ধ্যার ভিতরে প্রশাসনের নিকট একটি সমাধান চাই। 


বঙ্গবন্ধু হলের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) খায়রুল বাশার সাকিব বলেন, আমাদের একজন জুনিয়র কে পেয়ে তারা আক্রমণ করে বসে। পরবর্তী তারা সবাই এসে আমাদের কয়েকজনের উপর হামলা চালায়। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমরা এটার বিচার চাই৷ 


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, গতকাল রাতে সংঘর্ষের পর আমি সারারাত ধরে হলেই অবস্থান করি এবং পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে চেষ্টা করি। কিন্তু দুপুরে ছেলেরা খাওয়ার জন্য বের হলে তারা হামলার শিকার হয়। যার ফলে পুনরায় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ আমার হলের সবাইকে আমি হলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হই। আর যারা আহত হয়েছে তাদেরকে হসপিটালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।


এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মিহির লাল ভৌমিককে ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায় নি। 


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, বিকাল সাড়ে ৫টায় উপাচার্য সকল হল প্রশাসনকে নিয়ে মিটিংয়ের ডাক দিয়েছেন। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবো। 


সদর দক্ষিণ থানার পুলিশ ইনচার্জ দেবাশীষ রায় বলেন, আমরা খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে আসি। এরপর থেকেই আমরা এখানকার পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটা সমাধান করার চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাধান করতে না পারলে আমরা আমাদের আইনী ব্যবস্থা নিব। 


এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই দুই হলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় নজরুল হলের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করে বঙ্গবন্ধু হলের এক ছাত্রলীগকর্মী। সে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় দুই হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় লাঠি, রড, দেশীয় অস্ত্র হাতে দেখা দেখা যায় একাধিক ছাত্রলীগ কর্মীকে। 


উল্লেখ্য, শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) নামায পড়তে যাওয়ার সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্রলীগ কর্মী সেলিম রেজাকে পথ থেকে সরে দাঁড়াতে বলে কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগ নেতা ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল রায়হান। নামায শেষে রায়হানের কাছে বিষয়টি জানতে চায় বঙ্গবন্ধু হলের সেলিম রেজা, রিফাতসহ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী। এ সময় দুই হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।