ঢাকা মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

Popular bangla online news portal

জেলেদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ


নিউজ ডেস্ক
১০:২২ - মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২
জেলেদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ

জেলেদের নির্ভুল তালিকা তৈরি, পরিচয়পত্র প্রদান এবং মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধের সময়ে জেলেদের খাদ্য সহায়তার সঙ্গে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। একইসঙ্গে রেশনিংয়ের পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ‘জেলে কার্ড পাওয়া বিষয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও কিছু সুপারিশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এ সুপারিশ করেন।

এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেখ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, জেলে বাস করে এমন এলাকার মোট ৮ হাজার ৬৪৪ পরিবারের ওপর জরিপ চালিয়েছেন তারা। এসব পরিবারে মোট সদস্য ৪২ হাজার ৮৯৬ জন। ৯৯ শতাংশ পরিবারই শুধু মৎস্য আহরণের ওপর নির্ভরশীল। ২২০ জন কিশোর জেলে পেশায় নিয়োজিত। অথচ এই পেশাকে এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে শিশু শ্রম বা শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়নি।

দেখা যায়, জরিপকৃত জেলেদের মধ্যে মাত্র ৪২ শতাংশ জেলে কার্ডধারী। ২০২০ সালে তালিকা হালনাগাদ করার সময় অনেকে সাগরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত থাকায় তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা যায়নি। অপরদিকে জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিসের লোকবলের সংকট থাকায় তাদের হালনাগাদ করার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় সরকারের বিশেষত ইউনিয়ন পরিষদের সহায়তা নিতে হয়। এতে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে জেলে না হলেও অনেকের নাম জেলে তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক বিবেচনায়ও অনেক প্রকৃত মৎস্য শ্রমিকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা অর্থসংকটে ভোগেন উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ৪৫ শতাংশ মৎস্য শ্রমিক দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পাশাপাশি জাল বোনা বা মেরামত, কৃষিকাজ, লুকিয়ে মাছ ধরা, শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ, রিকশা বা অটোরিকশা চালানো, ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে সংসারের ব্যয় নির্বাহের চেষ্টা করেন।

জেলে কার্ডে অনিয়ম হয় উল্লেখ করে শেখ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, এবছর ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসে দেশের কিছু কিছু স্থানে জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে। এসময় ৭৭ শতাংশ মৎস্য শ্রমিক সরকারি চাল সহায়তা পায়। অপরদিকে ১৯ শতাংশ মৎস্য শ্রমিক সরকারি বরাদ্দের চাল পায়, যাদের কোনো জেলে কার্ড নেই। জাটকা সংরক্ষণের জন্য মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় চার দফায় ৪০ কেজি করে ১৬০ কেজি অথবা দুই দফায় ৮০ কেজি করে ১৬০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু ৮৮ দশমিক ৮ শতাংশ মৎস্য শ্রমিক ৭১ থেকে ৮০ কেজি এবং ৯ দশমিক ২ শতাংশ জেলে ৬১ থেকে ৭০ কেজি চাল পান।

ঠিক মতো সহায়তা না পেয়ে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা ঋণগ্রস্ত হতে বাধ্য হন উল্লেখ করে প্রবন্ধে বলা হয়, সরকারের বরাদ্দ করা চাল জেলেরা সঠিক পরিমাণে পায় না, যা পায় তাও তাদের প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। ৭৫ শতাংশ মৎস্য শ্রমিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় আর্থিক সংকটে দিনযাপন করেন। পাথরঘাটায় ৬৬ শতাংশ এবং কুতুবজোমে ৮১ শতাংশ মৎস্য শ্রমিক আর্থিক সংকটে পড়ে। আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ মৎস্য শ্রমিক উচ্চ সুদে এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ বিনা সুদে টাকা ঋণ নিতে বাধ্য হয়।

আলোচনা সভার সভাপতি প্রকল্প পরিচালক বণশ্রী মিত্র মিয়াজি বলেন, একটা পরিবারের অন্তত মাসে ৫ হাজার টাকা ও ৬০ কেজি চাল প্রয়োজন হয়। যদি এটা বাস্তবায়ন করা হয়, তবেই জেলেরা একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবে।

সভায় সুপারিশ করা হয়— অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকৃত ‘জেলে’ নির্ধারণের জন্য যথাযথ সংজ্ঞায়ন করা। দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে একটি গ্রহণযোগ্য ও নির্ভুল জেলে তালিকা প্রণয়ন ও দুই বছর অন্তর অন্তর এই তালিকা হালনাগাদ করা। প্রকৃত মৎস্য শ্রমিকদের পরিচয়পত্র প্রদান। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতিটি মৎস্য শ্রমিকের জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্য সহায়তা সঠিকভাবে প্রদান নিশ্চিত করা। খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি দৈনন্দিন নানা ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে আর্থিক সংকট মোকাবিলায় মৎস্য শ্রমিকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। জরুরি প্রয়োজনে মৎস্য শ্রমিকদের জন্য সহজ শর্তে ও নামমাত্র সুদে ঋণের বন্দবস্ত করা।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শেখ গিয়াসউদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক ফেডারেশনের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন জেলে সংগঠনের প্রতিনিধিরা।